রফিকুল মাদানীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
‘শিশু
বক্তা ’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা
হয়েছে। মামলার পর তাকে পুলিশের
হাতে তুলে দিয়েছে র ্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রেব )।
বৃহস্পতিবার
সকালে র ্যাবের মিডিয়া
উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে
বলেন , গাজীপুর মহানগরের গাছায় এক ওয়াজে রাষ্ট্রপতি
ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য
দেওয়ায় মাদানীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা
হয়েছে।
VIDEO
তিনি
জানান , বুধবার সকালে তাকে নেত্রকোনায় তার
বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা
হয়। মামলার পর রাতে তাকে
গাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে
মামলার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে , গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার
এলাকার শীতক ফ্যাক্টরির ভেতর
গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক
ওয়াজ মাহফিলে প্রশাসন সম্পর্কে নানা উস্কানিমূলক মন্তব্য
করে তা ইউটিউবে ছাড়েন
মাদানী। এর কারণে ব্রাহ্মবাড়িয়া ,
চট্টগ্রামসহ বিভিন্নস্থানে ধ্বাংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়।
র ্যাব জানায় , মাদানীকে
কাছ থেকে যে মোবাইল
ফোন উদ্ধার করা হয় , তাতে
‘আপত্তিকর ’ কিছু ভিডিও পাওয়া
গেছে।
রফিকুলের
বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামে। সেখান থেকেই তাকে আটক করা
হয় বলে স্বজনরা জানায়।
ইসলামী
দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় রফিকুলের বয়স ২৫ বছর
হলেও আকার -আকৃতির জন্য
তাকে ‘শিশু বক্তা ’ বলে
ডাকেন তার ভক্তরা।
এর আগে গত ২৫
মার্চ নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকালে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে রফিকুলকে আটক
করেছিল পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে
দেওয়া হয়। ওই ঘটনার
মামলায় তাকে আসামি করা
হয়নি।
শুক্রবার থেকে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা
‘কঠোর
স্বাস্থ্যবিধি ’ প্রতিপালন সাপেক্ষে লকডাউনের মধ্যেও দোকানপাট ও শপিংমল খোলা
রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা থেকে জানানো হয়।
তবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার হবে বলেও সতর্ক করেছে সরকার।
করোনাভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে শপিং মল , দোকান - পাট , হোটেল - রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল - সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।
গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে ১১ দফা নিষেধাজ্ঞায় সরকারি - বেসরকারি অফিস - আদালত , ব্যাংক জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে রোজার আগে দোকান - পাট খুলতে কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন দোকান মালিক ও কর্মচারীর। এর পরিপ্রেক্ষিতে দোকান ও শপিং মল খোলার নির্দেশনা এল।
হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন মামুনুল হক
কয়েকদিন
ধরে ব্যাপক আলোচিত -সমালোচিত হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তার নিজের
ব্যক্তিগত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার দুপুরে
লাইভে এসে হাতজোড় করে
ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
মামুনুল
হক বলেন , আমি সবার কাছে
দোয়া চাই। আমার ব্যক্তিগত
অসাবধানতার কারণে যে ক্রটি -বিচ্যুতি
হয়েছে। আমার অসাবধানতা এবং
যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে
যে ক্ষতির সম্মুখীন ব্যক্তিগতভাবে হয়েছি , সেই জন্য আমি
নিজেই মর্মাহত। আমার কারণে আজকে
সেখানে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের কাছে আমি হাতজোড়
করে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে
থাকার আশ্বাস দেন এই হেফাজত
নেতা। পাশাপাশি বিশ্বের মুসলমান ভাইদেরও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
জানান তিনি।
মামুনুল
বলেন , একের পর এক
মামলা করা হচ্ছে। এর
মাধ্যমে অনেক মানুষকে হয়রানি
করা হবে। অথচ প্রকৃত
যারা দোষী , যারা গিয়ে হামলা
করল , সেই সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে
রাষ্ট্র নীরব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
অথচ তাদের নাম -পরিচয় দিবালোকের
মতো পরিষ্কার। ইনশাআল্লাহ , ইতোমধ্যে তাদের ব্যাপারে আমি এজাহার দায়ের
করেছি। আরও আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণ করব।
ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে আমেরিকায় রাহুল দ্রাবিড়
খেলোয়াড়ি
জীবনে তার পরিচিত ছিল
'দ্য ওয়াল '। অসম্ভব
ঠাণ্ডা মাথার এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার
খেলা ছাড়ার পর ভারতের জাতীয়
দলের জন্য ক্রিকেটার তুলে
আনার ক্ষেত্রে অনেক বছর ধরে
কাজ করছেন। তবে এবার ক্রিকেটের
প্রসার করতে আমেরিকায় পাড়ি
দিলেন রাহুল দ্রাবিড়।
ক্ষমতাধর
দেশটিতে ক্রিকেট প্রসারে আগামী ৮ ও ৯
এপ্রিল একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত
হবে। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে
'শো মি দ্য ডাটা '। তবে শুধু
রাহুল একা নয় , তার
সঙ্গে এই ক্রিকেট আড্ডায়
থাকবেন ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ জয়ী
কোচ গ্যারি কার্স্টেন ও ইংল্যান্ড নারী
দলের সাবেক ক্রিকেটার ঈশা গুহ।
শোনা
যাচ্ছে , সেই অনুষ্ঠানে আধুনিক
ক্রিকেটের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে
ড্রেসিংরুমে ক্রিকেটারদের মধ্যে কোন কোন বিষয়
নিয়ে কথাবার্তা হয় - তা নিয়ে
আলোচনা হতে পারে। তাছাড়া
প্রায় সব ক্রিকেট খেলুড়ে
দেশেই ঘরোয়া টি -টিয়োন্টি প্রতিযোগিতা
রমরমিয়ে চলছে। এর মধ্যে আইপিএলের
চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রসারে আইপিএলের অবদান নিয়েও এই তিনজন আড্ডা
দেবেন।
নারীর পোশাকের কারণে পাকিস্তানে ধর্ষণ বেড়েছে , ইমরানের বক্তব্যে তোলপাড়
ধর্ষণ
বেড়ে যাওয়ার জন্য নারীদের পোশাককে
দায়ী করে তোপের মুখে
পড়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি
দেশটিতে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় নারীদের
পোশাককে দায়ী করায় তুলকালাম
শুরু হয়ে যায়। বার্তা
সংস্থা এএফপির খবরে এমন তথ্য
উঠে এসেছে। সমালোচকরা তাকে মুর্খ বলতে
দ্বিধা করছেন না।
সম্প্রতি
পাকিস্তানের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী
ইমরান খান ধর্ষণ বেড়ে
যাওয়ার জন্য অশ্লীলতা ও
নারীদের খোলামেলা পোশাককে দায়ী করেন।
গত বছর এক নারী
রাতে এক পেট্রোল পাম্পে
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। নিজের সন্তানদের
সামনে ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারীকে
এক পুলিশ কর্মকর্তা রাতে কোনো পুরুষ
সঙ্গী ছাড়া বাইরে বের
হওয়ার কারণে ভর্ৎসনা করলে দেশজুড়ে শুরু
হয় প্রতিবাদ -বিক্ষোভ।
আল জাজিরার খবরে বলা হয় ,
ওই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নারীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শও দেন।
তিনি বলেন , পর্দা করার সারবস্তুই হলো
আকর্ষণ করা থেকে বিরত
থাকা। নিজেকে বিরত রাখার ইচ্ছাশক্তি
সবার নেই। সবাইকে
পর্দা করার আহ্বান জানিয়ে
তিনি বলেন , যে সমাজে অশ্লীলতার
প্রচলন আছে , সেখানে তার
পরিণতিও রয়েছে
ইমরান
খানের ওই মন্তব্যের পর
প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে
মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে , প্রধানমন্ত্রী ‘ধর্ষণ কে ক্ষমার চোখে ’
দেখতে চাচ্ছেন। নিজের মন্তব্যের জন্য তারা ইমরান
খানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং এ দাবির
পক্ষে কয়েকশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।
অনেক
বিখ্যাত ব্যক্তি এক বিবৃতিতে ইমরান
খানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে ইমরান
খানের মন্তব্যকে ‘ত্রুটিপূর্ণ , রূঢ় ও বিপজ্জনক ’
বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে
বলা হয় , ধর্ষণের ঘটনার
অপরাধ কেবলমাত্র ধর্ষকের ওপরই বর্তায় এবং
(ইমরান খানের মন্তব্যের মতো ) বক্তব্যের সংস্কৃতি
ধর্ষককে উৎসাহিত করে। এর আগে
হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান মঙ্গলবার
মন্তব্য করে , ইমরান খানের
মন্তব্যে তারা ‘হতভম্ব ’ হয়েছে।
বিবিসি
জানায় , টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত দুই ঘণ্টার ওই
প্রশ্ন -উত্তর পর্বে ইমরান খানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল , যৌন
নিপীড়ন বন্ধে তার সরকার কী
কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ?
উত্তরে
তিনি প্রথমে নারী ও শিশুদের
বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের নিন্দা করেন। একপর্যায়ে বলেন , ‘অশ্লীলতা বেড়ে যাওয়ার ’ ফল
হচ্ছে যৌন নৃশংসতা। এজন্য
তিনি ভারত , পশ্চিমা ও হলিউডের সিনেমাকে
দায়ী করেন।
এ সময় এক ব্যক্তি
তাকে প্রশ্ন করেন , দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা ,
বিশেষ করে শিশুদের ওপর
যৌন হয়রানি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে
কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
জবাবে
ইমরান খান বলেন , কিছু
লড়াইয়ে সরকার ও আইন একা
জিততে পারে না। এতে সমাজেরও অংশগ্রহণ
দরকার। তার কথায় , ‘ফাহশি ’
(অশ্লীলতা ) থেকে নিজেদের রক্ষা
করা সমাজের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ।
ইমরান
বলেন , ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার
যতগুলো ঘটনা গণমাধ্যমে আসে ,
সেগুলো প্রকৃত সংখ্যার এক শতাংশ মাত্র।
সমাজে নির্লজ্জতার কারণে আজকাল বিয়ে -বিচ্ছেদের হার
৭০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন , ইসলামে
পর্দাপ্রথার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘প্রলোভনকে আটকে রাখা ’।
সমাজে অনেকে রয়েছে , যারা ইচ্ছাশক্তি দমিয়ে
রাখতে পারে না। এর
কিছু প্রভাব তো পড়বেই ! পাকিস্তানের
নারীদের উচিত প্রলোভন প্রতিরোধ
করা। কারণ , সবার নিজেকে সংবরণ
করার ইচ্ছাশক্তি থাকে না। তাই
নারীদের পর্দা করা উচিত।
ইমরান
খানের ওই মন্তব্যের পর
সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। নারীদের
নিরাপত্তা ও সমতার বিচারে
বিশ্বের সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি পাকিস্তান। সেখানে
তথাকথিত ‘অনার কিলিং ’ এর
নামে পরিবারের সদস্যরাই নারীদের নির্যাতন , ধর্ষণ এমনকি হত্যাও করে।
পাকিস্তানের
সরকারি হিসাব অনুসারে , দেশটিতে প্রতিদিন অন্তত ১১টি ধর্ষণের ঘটনার
খবর পাওয়া যায়। সেখানে গত
ছয় বছরে ২২ হাজারের
বেশি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাজা
হয়েছে মাত্র ৭৭ জন অভিযুক্তের।
Comments
Post a Comment